২০২৬ সালে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মৃত্যু নাকি রূপান্তর? কেন কাজ করছে না পুরোনো অ্যাড এবং কীভাবে টিকিয়ে রাখবেন আপনার ক্যারিয়ার? (ফিউচার গাইডলাইন)

২০২৬ সালে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের রূপান্তর

লিখেছেন: ডিজাইনোফ্লাই স্টুডিও টিম | ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

আপনারা যারা এই মুহূর্তে লেখাটি পড়ছেন, তাদের ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালে সালটা দেখাবে ২০২৬। কিন্তু আজকের আলোচনার শুরুটা করব একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে। সম্প্রতি আমাদের দেশের এক অভিজ্ঞ ডিজিটাল মার্কেটার—যিনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছেন—একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। তার সেই ছোট্ট স্ট্যাটাসটি যেন পুরো মার্কেটিং জগতের বর্তমান হাহাকারের প্রতিচ্ছবি।

পোস্টটি পড়ার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। কারণ, এটি কেবল একজনের অভিজ্ঞতা নয়; এটি বর্তমান সময়ের লক্ষ লক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার এবং বিজনেস ওনারের মনের কথা। চলুন, আগে সেই পোস্টটি হুবহু দেখে নেওয়া যাক।

অভিজ্ঞ এক ফ্রিল্যান্সারের ফেসবুক পোস্ট:

“আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়। আমি এই ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে আছি। আমার কাছে যেটা মনে হলো যে traditional ads আমার মনে হচ্ছে না আগের মত কাজ করে। আমার অনেক ক্লাইন্ট এরকম আমাকে অনেক প্রশ্ন করে। যে কেমন কনটেন্ট কেমন স্ট্যাটাজি ফলো করলে সেল বেশি হবে? কাস্টমার আমাকে বিশ্বাস করবে? কাস্টমার কেন আমার থেকে প্রোডাক্ট কিনবে? তখন আমার মনে হলো UGC strategy এর কথা আমার মনে হয় এই ক্যাটাগরির ডিমান্ড খুব তাড়াতাড়ি বাড়বে অলরেডি প্রচুর চাহিদা আছে। US, Uk, UE এসব দেশের ক্লাইন্ট প্রচুর আছে। আপনার যদি marketing sense ভালো হয় তাহলে এটা একটা solid niche আপনার জন্য। শুরু করে দেন এখনি। আর কেউ এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন কিনা অলরেডি কমেন্টে জানাবেন।”

এই পোস্টটি পড়ার পর আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে—কেন ৫ বছরের অভিজ্ঞ একজন মানুষও বলছেন যে ট্র্যাডিশনাল অ্যাড আর কাজ করছে না? কেন ক্লায়েন্টরা এত হতাশাগ্রস্ত? আর এই ‘UGC’ জিনিসটাই বা কী, যা ২০২৬ সালে এসে আমাদের একমাত্র বাঁচার উপায় হতে পারে?

আজকের আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সংকট, এআই (AI) এর কারণে সৃষ্ট আমূল পরিবর্তন, এবং আগামী ১০ বছরে আপনার ক্যারিয়ারকে কীভাবে ‘ফিউচার প্রুফ’ (Future Proof) করবেন—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পর্ব ১: ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কেন এই বিপর্যয়? (The Death of Traditional Marketing)

২০১৮-২০২২ সালের মধ্যে যে কেউ ফেসবুক অ্যাডস বা গুগল অ্যাডস চালালেই বিক্রি হতো। একটি সুন্দর ছবি, একটি আকর্ষণীয় হেডলাইন এবং ৫০০০ টাকার বাজেট—এটাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই সোনালী দিনগুলো পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।

কেন? কারণ মানুষ আর আগের মতো ‘বিক্রির জন্য চিৎকার’ সহ্য করতে পারছে না।

একটি সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী:

  • ৭৬% মানুষ এখন বিজ্ঞাপন দেখলে তা স্কিপ করে।
  • ৫৭% মানুষ অ্যাড ব্লকার (Ad Blocker) ব্যবহার করে।
  • ৬৩% মানুষ বলেছে, তারা শুধুমাত্র তখনই কোনো প্রোডাক্ট কিনে যদি সেটা তাদের বন্ধু বা পরিচিত কেউ রেকমেন্ড করে।

এটি মানে, আমরা যে ‘Push Marketing’ করছিলাম, সেটা আর কাজ করছে না। মানুষ এখন ‘Pull Marketing’ বা ‘Trust-Based Marketing’ চায়।

২০২০ থেকে ২০২৩ সালের কথা মনে আছে? তখন ডিজিটাল মার্কেটিং ছিল বেশ সহজ। ফেসবুকে একটা সুন্দর ছবি বা ভিডিও দিয়ে ‘বুস্ট’ করে দিলেই সেল আসত। আরও একটু অ্যাডভান্সড হতে চাইলে পিক্সেল সেটআপ আর রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন চালালেই আরওএএস (ROAS) থাকত ৩ বা ৪ গুণের বেশি।

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই দিনগুলো এখন রূপকথার গল্পের মতো। আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ওই ফ্রিল্যান্সার ভাই যথার্থই বলেছেন— “Traditional Ads আর আগের মতো কাজ করে না।”

১. মানুষের আচরণে পরিবর্তন (Ad Blindness)

মানুষ এখন বিজ্ঞাপনের প্রতি অন্ধ হয়ে গেছে। একে বলা হয় ‘Ad Blindness’। ২০২৪-২৫ সালের দিকেই মানুষ নিউজফিড স্ক্রল করার সময় স্পন্সরড পোস্ট (Sponsored Post) দেখলেই দ্রুত স্কিপ করে যেত। ২০২৬ সালে এসে এটা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষ এখন বুঝতে শিখেছে কোনটা অর্গানিক কনটেন্ট আর কোনটা টাকা দিয়ে দেখানো বিজ্ঞাপন। মানুষ বিজ্ঞাপন দেখতে চায় না, তারা গল্প শুনতে চায়।

২. এআই (AI) এবং তথ্যের সহজলভ্যতা

আগে মানুষ কোনো কিছু কেনার আগে গুগলে সার্চ করত। সার্চ রেজাল্টের প্রথম ৩-৪টি লিংকে ক্লিক করত, যার মধ্যে বিজ্ঞাপনও থাকত। কিন্তু এখন? এখন মানুষ গুগলে সার্চ করে না। তারা সরাসরি ChatGPTClaude, বা Gemini-এর মতো এআই চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করে।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ভালো রানিং সু (Running Shoe) কিনতে চায়, সে এখন আর গুগলে লিখে ১০টা ওয়েবসাইট ঘাটে না। সে চ্যাটবটকে বলে:
“আমি ফ্ল্যাট ফিটের অধিকারী, আমাকে ৫০০০ টাকার মধ্যে সেরা ৩টি রানিং সু সাজেস্ট করো এবং রিভিউ সহ বলো।”

এআই তাকে সরাসরি ৩টি মডেলের নাম বলে দেয়। এখানে আপনার হাজার ডলারের গুগল অ্যাড কোনো কাজে আসছে না, যদি না এআই আপনার ব্র্যান্ডকে চিনে থাকে। এই পরিবর্তনের ফলেই ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং কৌশলগুলো ধসে পড়ছে।

৩. বিশ্বাসের সংকট (Trust Deficit)

ওই ফ্রিল্যান্সারের পোস্টে একটি লাইন ছিল— “কাস্টমার আমাকে বিশ্বাস করবে? কাস্টমার কেন আমার থেকে প্রোডাক্ট কিনবে?”
এটিই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অনলাইনে এত বেশি স্ক্যাম, এত বেশি ফেইক রিভিউ এবং এত বেশি লো-কোয়ালিটি ড্রপশিপিং প্রোডাক্টের ছড়াছড়ি যে, মানুষ এখন আর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে বিশ্বাস করে না। একটা গ্লসি, স্টুডিওতে বানানো পারফেক্ট ভিডিও অ্যাড দেখলে মানুষের মনে সন্দেহ জাগে। তারা মনে করে, “এটা তো মেকআপ করা বিজ্ঞাপন, আসল প্রোডাক্ট নিশ্চয়ই এমন না।”

পর্ব ২: এআই (AI) যুগে সার্চ ইঞ্জিন বনাম চ্যাটবট: খেলার নিয়ম বদলে গেছে

আমরা যারা ডিজিটাল মার্কেটার, আমাদের সারা জীবন শেখানো হয়েছে এসইও (SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এসইও-র সংজ্ঞাটাই বদলে গেছে। এখন আর মানুষ “কীভাবে কেক বানাবো” লিখে গুগলে সার্চ দিয়ে রেসিপি ব্লগের ৩০০০ শব্দের আর্টিকেল পড়ে না। তারা চ্যাটবটকে বলে, “আমাকে কেক বানানোর রেসিপি দাও,” আর এআই মুহূর্তের মধ্যে উত্তর দিয়ে দেয়।

শুধু বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আর সেল আসবে না

আগে মার্কেটিংয়ের মূলমন্ত্র ছিল— “Traffic + Offer = Sales”। অর্থাৎ বেশি বেশি মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন দেখাও, আর ডিসকাউন্ট দাও, সেল আসবেই।
কিন্তু এখন সমীকরণটা হলো— “Trust + Connection + Value = Sales”

যেহেতু এআই চ্যাটবটগুলো তথ্যের গেটকিপার (Gatekeeper) হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই আপনার ব্র্যান্ড যদি বিশ্বাসযোগ্য না হয়, তবে এআই আপনার নামও নেবে না। আপনি ফেসবুকে যত টাকাই খরচ করেন না কেন, মানুষ যদি আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালু সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়, তারা কিনবে না।

ফ্রিল্যান্সারদের মানসিক চাপ (The Stress)

ওই ফেসবুক পোস্টে ফ্রিল্যান্সার ভাইয়ের হতাশাটা লক্ষ্য করেছেন? ৫ বছর কাজ করার পরও তিনি ক্লায়েন্টের প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। কারণ ক্লায়েন্টরা এখন রেজাল্ট পাচ্ছে না। ক্লায়েন্টরা দেখছে তারা ১০০০ ডলার অ্যাড স্পেন্ড করছে, কিন্তু আগের মতো সেল আসছে না। তখন তারা দোষ দেয় মার্কেটারকে।
কিন্তু সমস্যাটা মার্কেটারের না, সমস্যাটা ‘ট্যাকটিকস’ বা কৌশলের। পুরনো অস্ত্র দিয়ে নতুন যুগের যুদ্ধ জয় করা সম্ভব নয়। এই স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই উপায়— নতুন স্কিল শেখা এবং নতুন স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করা।

পর্ব ৩: সমাধান কী? ইউজিসি (UGC) কেন একমাত্র ভরসা?

ওই ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে একটি জাদুকরী শব্দের উল্লেখ আছে— UGC (User Generated Content)। তিনি বলেছেন, “UGC strategy এর কথা আমার মনে হয় এই ক্যাটাগরির ডিমান্ড খুব তাড়াতাড়ি বাড়বে অলরেডি প্রচুর চাহিদা আছে।”

তিনি ১০০% সঠিক। ২০২৬ সালে এসে এবং এর পরবর্তী সময়ে মার্কেটিংয়ের মূল হাতিয়ার হলো ইউজিসি। কিন্তু ইউজিসি আসলে কী এবং কেন এটি ট্র্যাডিশনাল অ্যাডের চেয়ে ভালো কাজ করে?

ইউজিসি (UGC) কী?

ইউজিসি বা ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট হলো এমন কনটেন্ট (ছবি, ভিডিও, রিভিউ) যা কোনো ব্র্যান্ড বা কোম্পানি নিজে তৈরি করে না, বরং সাধারণ ব্যবহারকারী বা কাস্টমাররা তৈরি করে। এটি কোনো স্টুডিওতে শ্যুট করা চকচকে বিজ্ঞাপন নয়। এটি হতে পারে একজন সাধারণ মানুষের মোবাইল দিয়ে তোলা ভিডিও, যেখানে সে কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করছে এবং তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে।

কেন ইউজিসি (UGC) এখন সেরা স্ট্র্যাটেজি?

১. বিশ্বাসযোগ্যতা (Authenticity): মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করে, ব্র্যান্ডকে নয়। যখন কেউ দেখে যে তার মতোই সাধারণ একজন মানুষ ক্যামেরার সামনে প্রোডাক্টটি ব্যবহার করছে এবং ভালো বলছে, তখন ব্রেইন সেটাকে ‘বিজ্ঞাপন’ হিসেবে নেয় না, বরং ‘পরামর্শ’ হিসেবে নেয়।
২. অ্যাড ফ্যাটিগ (Ad Fatigue) দূর করে: নিউজফিডে হাজার হাজার চকচকে গ্রাফিক্সের ভিড়ে একটি র-ফুটেজ (Raw Footage) বা সাধারণ ভিডিও মানুষের চোখ আটকে দেয়।
৩. খরচ কম, ফলাফল বেশি: বড় বাজেটের ভিডিও প্রোডাকশনের চেয়ে মোবাইল দিয়ে বানানো ইউজিসি ভিডিওর কনভারশন রেট (Conversion Rate) বর্তমানে প্রায় ৫০-৬০% বেশি।
৪. এআই-এর প্রভাব: এআই টেক্সট জেনারেট করতে পারে, ছবি বানাতে পারে, এমনকি ভিডিও-ও বানাচ্ছে। কিন্তু একজন ‘আসল মানুষের’ ইমোশন বা আবেগ এআই এখনো হুবহু নকল করতে পারে না (বা পারলেও মানুষ সেটা বুঝতে পারে)। তাই ‘হিউম্যান কানেকশন’ এখন সবচেয়ে দামী সম্পদ।

যারা ইউএস (US), ইউকে (UK) বা ইউরোপের (EU) ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করছেন, তারা জানেন—সেখানে এখন ব্র্যান্ডগুলো তাদের মার্কেটিং বাজেটের ৭০% খরচ করছে ইউজিসি ক্রিয়েটর এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে। ফেসবুক বা গুগল অ্যাডে তারা এখন আর সরাসরি প্রোডাক্টের ছবি দেয় না, দেয় কোনো ইউজিসি ভিডিও।

পর্ব ৪: আগামী ১০ বছরের জন্য ক্যারিয়ার রক্ষা করবেন কীভাবে? (Future-Proof Skills)

ডিজিটাল মার্কেটিং মরে যায়নি, বিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আপনি যদি নিজেকে শুধু ‘ফেসবুক অ্যাড এক্সপার্ট’ বা ‘এসইও এক্সপার্ট’ হিসেবে পরিচয় দেন, তবে আপনার ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে। কারণ অ্যাড রান করা বা কিওয়ার্ড রিসার্চ করার কাজগুলো এআই এজেন্টরা (AI Agents) মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে করতে পারছে।

তাহলে একজন মানুষ হিসেবে আপনার ভূমিকা কী হবে? আগামী ১০ বছর ডমিনেট করার জন্য আপনাকে আজই কোন স্কিলগুলো শিখতে হবে?

১. স্টোরিটেলিং এবং সাইকোলজি (Storytelling & Psychology)

এআই হয়তো গ্রামাটিক্যালি সঠিক বাক্য লিখতে পারে, কিন্তু মানুষের ইমোশন বা আবেগ ছুঁয়ে যাওয়ার মতো গল্প বলতে পারে না। মানুষকে কেনাকাটায় উদ্বুদ্ধ করতে হলে সাইকোলজি বুঝতে হয়।

  • করণীয়: শিখুন কীভাবে গল্প দিয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে হয়। কাস্টমারের পেইন পয়েন্ট (Pain Point) এবং ইমোশন নিয়ে কাজ করুন। টুলস বা টেকনিকের চেয়ে হিউম্যান বিহেভিয়ার বোঝা এখন বেশি জরুরি।

২. ডাটা অ্যানালিটিক্স এবং স্ট্র্যাটেজি (Data Analytics & Strategy)

এআই প্রচুর ডাটা প্রসেস করতে পারে, কিন্তু সেই ডাটা থেকে ইনসাইট বের করে সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মানুষের মস্তিষ্কের প্রয়োজন।

  • করণীয়: শুধু ক্যাম্পেইন রান করা নয়, ডাটা পড়ে ব্যবসার গ্রোথ প্ল্যান বা ফানেল (Funnel) ডিজাইন করা শিখুন। নিজেকে ‘মিডিয়া বায়ার’ নয়, ‘গ্রোথ পার্টনার’ হিসেবে গড়ে তুলুন।

৩. কমিউনিটি বিল্ডিং (Community Building)

ভবিষ্যতের মার্কেটিং হলো কমিউনিটি নির্ভর। আপনি যদি আপনার ব্র্যান্ডের চারপাশে একটি লয়াল ফ্যানবেস বা কমিউনিটি তৈরি করতে পারেন, তবে আপনাকে আর পেইড অ্যাডের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

  • করণীয়: ফেসবুক গ্রুপ, ডিসকর্ড সার্ভার বা হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট শিখুন। কীভাবে মানুষকে এনগেজড রাখা যায় এবং ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর বানানো যায়, তা জানুন।

৪. ভিডিও মার্কেটিং এবং ইউজিসি ডিরেকশন

যেহেতু ইউজিসি এখন মূল হাতিয়ার, তাই আপনাকে ভিডিও কনটেন্টের স্ক্রিপ্ট লেখা, হুক (Hook) তৈরি করা এবং ক্রিয়েটরদের দিয়ে কীভাবে ভালো ভিডিও বানিয়ে নেওয়া যায়—সেই স্কিল অর্জন করতে হবে।

  • করণীয়: শর্ট ভিডিও (Reels, TikTok) তৈরির সাইকোলজি শিখুন। প্রথম ৩ সেকেন্ডে কীভাবে অডিয়েন্সকে আটকে ফেলা যায়, তা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করুন।

৫. এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অটোমেশন (AI & Automation)

এআই আপনার শত্রু নয়, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী সহকর্মী। চ্যাটজিপিটি বা মিডজার্নি ব্যবহার করে কীভাবে ১০ ঘণ্টার কাজ ১০ মিনিটে করা যায়, তা না জানলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

  • করণীয়: বিভিন্ন এআই টুলের অ্যাডভান্সড ব্যবহার শিখুন। কীভাবে এআই এজেন্ট দিয়ে কাস্টমার সাপোর্ট বা লিড জেনারেশন অটোমেট করা যায়, তা জানুন।

পর্ব ৫: ২০২৬ সালের অ্যাকশন প্ল্যান—শুরু করবেন কীভাবে?

UGC ads

ওই ফ্রিল্যান্সার ভাই তার পোস্টে বলেছেন, “শুরু করে দেন এখনি।” কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন?

ধাপ ১: মানসিকতা পরিবর্তন করুন
নিজেকে শুধু সার্ভিস প্রোভাইডার ভাবা বন্ধ করুন। ক্লায়েন্টকে বলুন, “আমি তোমার অ্যাড রান করে দেব না, আমি তোমার ব্র্যান্ড বিল্ড করতে সাহায্য করব।”

ধাপ ২: ইউজিসি (UGC) নিয়ে কাজ করুন
আপনি যদি মার্কেটার হন, তবে ক্লায়েন্টকে অফার করুন যে আপনি তাদের জন্য ইউজিসি স্ট্র্যাটেজি তৈরি করবেন। ভালো কনটেন্ট ক্রিয়েটর খুঁজে বের করবেন এবং তাদের দিয়ে ভিডিও বানাবেন। আর যদি আপনি ক্রিয়েটর হতে চান, তবে আজই নিজের ফোন দিয়ে ভালো মানের রিভিউ ভিডিও বানানোর প্র্যাকটিস শুরু করুন। আপওয়ার্ক এবং ফাইভারে ‘UGC Creator’-এর চাহিদা আকাশচুম্বী।

ধাপ ৩: লার্নিং কন্টিনিউ রাখুন
ডিজিটাল মার্কেটিং এমন একটি সেক্টর যেখানে প্রতি ৬ মাসে সবকিছু বদলে যায়। আজ যা কাজ করছে, ৬ মাস পর তা কাজ নাও করতে পারে। তাই শেখার কোনো বিকল্প নেই।

উপসংহার: টিকে থাকার লড়াইয়ে জিতবে কে?

ফেসবুক পোস্টের সেই ফ্রিল্যান্সারের হতাশা আসলে আমাদের সবার চোখের সামনের বাস্তবতা। পুরনো দালান ভেঙে যেমন নতুন দালান গড়ে ওঠে, তেমনি ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিংয়ের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক, হিউম্যান-সেন্ট্রিক এবং এআই-পাওয়ারড মার্কেটিং।

ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এআই কখনোই মানুষের ক্রিয়েটিভিটি বা সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, যদি আপনি সেই সৃজনশীলতাকে সঠিক পথে পরিচালনা করেন। যারা শুধু বাটন টিপে অ্যাড রান করা শিখেছিলেন, তারা ঝরে পড়বেন। কিন্তু যারা মার্কেটিংয়ের সাইকোলজি, ব্র্যান্ডিং এবং মানুষের বিশ্বাস অর্জনের কৌশল শিখবেন—আগামী ১০ বছর, এমনকি ২০ বছর পরেও তারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করবেন।

সুতরাং, আজই নিজেকে আপডেট করুন। ইউজিসি, স্টোরিটেলিং এবং এআই-এর সমন্বয়ে নিজেকে প্রস্তুত করুন। মনে রাখবেন, পরিবর্তনই একমাত্র ধ্রুব সত্য।

আপনার কি মনে হয়? ২০২৬ সালে মার্কেটিংয়ের অবস্থা আরও কোন দিকে মোড় নেবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

Feel free to visit our other blogs

#DigitalMarketing2026 #UGCMarketing #UGCStrategy #AIMarketing #UserGeneratedContent #FutureProofCareer #DeathOfTraditionalAds #AdBlindness #AIinMarketing #MarketingTransformation #StorytellingMarketing #GrowthHacking

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *