লিখেছেন: ডিজাইনোফ্লাই স্টুডিও টিম
জীবনের মাঝপথে এসে মানুষ যখন পেছনে ফিরে তাকায়, তখন সে কী দেখতে চায়? সাফল্য? টাকা? নাকি মানসিক প্রশান্তি?
গতকাল বিকেলের কথা। এক কফি শপে বসে কথা হচ্ছিল এক বড় ভাইয়ের সাথে। নামটা উহ্যই থাক, তবে তার জীবনের গল্পটা শুনলে আপনার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাবে। তিনি কোনো রূপকথার রাজপুত্র নন, লটারিতে টাকা পাওয়া কেউ নন। তিনি আমাদেরই মতো একজন ফ্রিল্যান্সার। কিন্তু তার গল্পের বাঁকগুলো সাধারণের চেয়ে অনেক আলাদা। তার জীবনের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের দেশের হাজারো সফল ফ্রিল্যান্সার এবং মধ্যবয়েসী মানুষের এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি।
আজকের ব্লগে আমি তার সেই অবিশ্বাস্য জার্নি এবং বর্তমান সময়ের এক কঠিন বাস্তবতার গল্প শোনাবো। যেখানে অর্থের অভাব নেই, কিন্তু স্বস্তি নেই। যেখানে সাফল্য আছে, কিন্তু ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা কেড়ে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI।
পর্ব ১: শুরুটা যেখানে শূন্য থেকে
ভদ্রলোকের বর্তমান বয়স ৩৮ বছর। আমাদের সমাজের তথাকথিত উচ্চশিক্ষার মাপকাঠিতে তাকে আপনি খুব একটা নম্বর দিতে পারবেন না। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি (HSC – ২০০৬ ব্যাচ)। কিন্তু সার্টিফিকেটের কাগজ যে মেধার একমাত্র মাপকাঠি নয়, তার প্রমাণ তিনি গত ১৩ বছর ধরে দিয়ে আসছেন।
তিনি একজন পুরোদস্তুর ‘লিড জেনারেটর’। আপওয়ার্ক (Upwork) এবং ফ্রিল্যান্সার ডট কমের (Freelancer.com) মতো বাঘা বাঘা মার্কেটপ্লেসে তিনি কাজ করছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। যখন বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা মানুষের কাছে খুব একটা পরিচিত ছিল না, তখন থেকেই তিনি ডলার ইনকাম করছেন।
তার সাফল্যের খাতাটা খুললে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। গত ১৩ বছরে তিনি অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে আয় করেছেন প্রায় ৪ লক্ষ মার্কিন ডলার ($4,00,000)। বর্তমান বাজার দরে যা প্রায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি! ভাবা যায়? মাত্র এইচএসসি পাস একজন মানুষ, কোনো বড় ডিগ্রি ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের দক্ষতা দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এনেছেন।
শুরুর দিকে তিনি একাই কাজ করতেন। কিন্তু কাজের চাপ বাড়লে গত ৭-৮ বছর ধরে তিনি একটি টিম গঠন করে কাজ করছেন। মজার ব্যাপার হলো, তিনি খুব হাই-রেটের কোনো কাজ করেন না। তার আওয়ারলি রেট (Hourly Rate) মাত্র ৬ থেকে ১০ ডলার। ক্যারিয়ারের শুরুতে যা ছিল মাত্র ৩ থেকে ৫ ডলার। অর্থাৎ, বিন্দু বিন্দু জলেই তিনি এই সিন্ধু গড়েছেন।
পর্ব ২: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যখন ভিলেন
গল্পের এই পর্যন্ত সবকিছুই স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা এবার সামনে আসা যাক। গত এক বছর ধরে তার জীবনে এক অদৃশ্য ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সেই ঝড়ের নাম— আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI।
আমরা যারা ডিজাইনোফ্লাই বা ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, তারা জানি AI কীভাবে জগতটাকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু এই ভাইটির জন্য পরিবর্তনটা এসেছে অশনি সংকেত হয়ে। তিনি বলছিলেন, “গত এক বছরে আমার কাজের পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।”
কেন? কারণ তিনি যে ‘লিড জেনারেশন’ বা ডাটা এন্ট্রির কাজগুলো করতেন, তার সিংহভাগ এখন বিভিন্ন এআই টুলস (AI Apps) নিমেষেই করে ফেলছে। ক্লায়েন্টরা এখন আর ম্যানুয়াল কাজের জন্য মানুষকে টাকা দিতে চায় না, যেখানে সফটওয়্যার সেটা ফ্রিতে বা নামমাত্র মূল্যে করে দিচ্ছে।
তিনি আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনগুলোতে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে। হয়তো তার হাতে আর কোনো কাজই থাকবে না। বর্তমানে এত খারাপ অবস্থার মধ্যেও তার মাসিক আয় ১০০০ ডলারের (১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার বেশি) ওপরে আছে। কিন্তু একজন মানুষ যখন মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করতে অভ্যস্ত, তখন এই পতন তাকে মানসিকভাবে বিদ্ধ করে। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি এক ধরনের অসহায়ত্ব দেখেছি। যে হাত ১৩ বছর ধরে কর্মঠ ছিল, সেই হাতকে অকেজো করে দিচ্ছে প্রযুক্তি।
পর্ব ৩: এক চতুর বিনিয়োগকারীর গল্প
তবে গল্পের আসল টুইস্ট এখানে নয়। আসল টুইস্ট হলো তার আর্থিক বুদ্ধিমত্তায় (Financial Literacy)। আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত টাকা হাতে এলেই দামী গ্যাজেট, বাইক বা ল্যাপটপ কিনে লাইফস্টাইল শো-অফ করতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই ভদ্রলোক ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা।
তিনি তার ইনকামের সাথে সাথে নিজের লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াননি। তিনি ছিলেন মিতব্যয়ী। গত ১৩ বছরে যা আয় করেছেন, তার ৮০ শতাংশেরও বেশি টাকা তিনি জমিয়েছেন এবং বিনিয়োগ করেছেন।
কোথায় বিনিয়োগ করেছেন?
তিনি কোনো ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজার বা জুয়ায় টাকা ঢালেননি। তিনি বেছে নিয়েছেন নিরাপদ খাত— ট্রেজারি বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এবং ব্যাংকের এফডিআর (FDR)।
এর ফলাফল?
বর্তমানে তিনি যদি সারাদিন কোনো কাজ নাও করেন, হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন, তবুও তার বছরে আয় হয় ৩০ লক্ষ টাকার ওপরে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। তার বিনিয়োগ থেকে আসা লভ্যাংশ বা মুনাফায় তিনি বছরে ৩০ লক্ষ টাকা পান। যেহেতু এগুলো সরকারি বন্ড বা ফিক্সড ডিপোজিট, তাই এই আয় এক প্রকার নিশ্চিত বা গ্যারান্টেড।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তিনি এই লাভের টাকাটাও খরচ করেন না। প্রতি বছর এই ৩০ লক্ষ টাকা তিনি পুনরায় বিনিয়োগ (Re-invest) করেন। অর্থাৎ কম্পাউন্ডিং ইন্টারেস্টের জাদুতে তার সম্পদ বেড়েই চলেছে। তিনি হিসাব কষে দেখেছেন, যদি তিনি এই লাভের টাকায় হাত না দেন, তবে আগামী ৬ বছরে তার মোট সম্পদ (Net Worth) দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
অর্থাৎ, এআই যদি তার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার ধ্বংসও করে দেয়, তার ভাতের অভাব হবে না। তার বর্তমান মাসিক পারিবারিক খরচ ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। পরিবারে তিনি, তার স্ত্রী এবং ৭ বছরের একটি মেয়ে। অথচ তার বসে বসে আয় মাসে ৩ লাখ টাকার মতো। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার (Financial Freedom) এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?
পর্ব ৪: দেশ ছাড়ার ভূত এবং পারিবারিক চাপ
এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, “ভাই, যার এত টাকা, মাসে ৩ লাখ টাকা যার শুয়ে-বসে ইনকাম, তার আবার সমস্যা কী?”
সমস্যাটা টাকার নয়, সমস্যাটা জীবনযাপনের মানের (Quality of Life)। তার স্ত্রী তাকে অনবরত চাপ দিচ্ছেন দেশ ছাড়ার জন্য। তাদের ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য। কারণ হিসেবে তার স্ত্রী যে পয়েন্টগুলো তুলে ধরছেন, সেগুলো কোনো ফ্যান্টাসি নয়, আমাদের ঢাকার কঠিন বাস্তবতা।
আসুন দেখি, কেন এই সচ্ছল পরিবারটি দেশ ছাড়তে চাইছে:
১. নিরাপত্তার চরম অভাব: সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, এমনকি খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। একজন সচ্ছল মানুষ হিসেবে রাস্তায় বের হলে তারা নিরাপদ বোধ করেন না। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে।
২. বিষাক্ত বাতাস ও পরিবেশ: ঢাকার বাতাস যে কতটা দূষিত, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। এলার্জি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য এই শহর এখন এক গ্যাস চেম্বার। তাদের পরিবারও এর ভুক্তভোগী। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো বিশুদ্ধ বাতাসটুকুও এখানে দুষ্প্রাপ্য।
৩. চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল দশা: তার স্ত্রীর মতে, দেশে চিকিৎসার নামে চলছে ব্যবসা। বড় বড় হাসপাতাল মানেই বড় বড় বিল, কিন্তু সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ। হাতে গোনা কয়েকজন ভালো ডাক্তার ছাড়া বাকিরা রোগীদের ‘টাকা বানানোর মেশিন’ মনে করে। ইন্ডিয়া বা থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিতে গেলে বোঝা যায়, আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা পিছিয়ে আছে।
৪. বিষাক্ত খাবার: বাজার থেকে যা কেনা হচ্ছে—মাছ, মাংস, সবজি—সবকিছুতেই ফরমালিন, কেমিক্যাল বা হেভি মেটালের ভয়। নিজের সন্তানকে ধীরলয়ে বিষ খাওয়াচ্ছেন কি না, এই শঙ্কা প্রতিটি অভিভাবকের।
৫. নরকতুল্য ট্রাফিক জ্যাম: ঢাকার রাস্তায় বের হওয়া মানেই জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করা। জ্যামের কারণে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য এবং কর্মক্ষমতা দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
৬. নাগরিক সেবায় হয়রানি: যেকোনো সরকারি সেবা পেতে গেলে যে পরিমাণ হয়রানি হতে হয়, তা একজন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষের জন্য কষ্টকর।
৭. অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার পালাবদল এবং বিদেশী শক্তির প্রভাব—সব মিলিয়ে তারা দেশের আগামী দিনগুলো নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না।
পর্ব ৫: বিদেশে যাওয়ার বাস্তবতা ও দ্বিধা

স্ত্রীর এই যুক্তিগুলো অকাট্য। তাই তিনি স্ত্রীর কথায় রাজি হয়ে আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষা দেন। যেহেতু দীর্ঘ ১৩ বছর আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করেছেন, ইংরেজিতে তার দক্ষতা সহজাত। কোনো কোচিং ছাড়াই তিনি ওভারঅল ৭.৫ স্কোর তোলেন।
স্কোর তো ভালো হলো, কিন্তু সমস্যা বাধলো অন্য জায়গায়। তার বয়স এখন ৩৮। রিসার্চ করে তিনি দেখলেন, এই বয়সে সপরিবারে বিদেশে সেটল হওয়ার একমাত্র উপায় হলো ‘স্টুডেন্ট ভিসা’। কিন্তু এখানে আছে বিশাল এক প্যাঁচ।
তাকে নতুন করে ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য ৩-৪ বছর পড়াশোনা করতে হবে, এরপর আবার ১-২ বছর মাস্টার্স। অর্থাৎ জীবনের ৪০-এর কোঠায় এসে তাকে আবার ছাত্র সাজতে হবে। শুধু তাই নয়, টিউশন ফি বাবদ তাকে নিজের জমানো টাকা থেকে ৫০-৬০ লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে।
এখানেই তার মনে তৈরি হয়েছে বিশাল এক সংশয়। তিনি আমাকে বললেন,
“ভাই, এই মুহূর্তে আমার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ১০০%। আমি যদি বাংলাদেশে থাকি, আমাকে টাকার জন্য কারো কাছে হাত পাততে হবে না। আমি রাজার হালে না হলেও, অত্যন্ত সচ্ছলভাবে জীবন পার করে দিতে পারব। কিন্তু বিদেশে গেলে?”
বিদেশের সমীকরণটা তার জন্য ভীতিকর:
- Paycheck to Paycheck লাইফ: বিদেশে গিয়ে তাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। জমানো টাকা ভাঙিয়ে পড়ার খরচ চালাতে হবে। পাশাপাশি হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে সংসার চালাতে হবে। মাস শেষে হাতে হয়তো কিছুই থাকবে না।
- হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম: বাংলাদেশের মতো আরামদায়ক জীবন সেখানে মিলবে না। প্রথম ৫-৭ বছর তাকে অমানুষিক পরিশ্রম করতে হবে। এই ৩৮ বছর বয়সে এসে, যখন শরীর ও মন একটু বিশ্রাম চায়, তখন কি তিনি সেই ফিজিক্যাল লেবার দিতে পারবেন?
- অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভালো চাকরি পাবেন কি না, বা স্থায়ী হতে পারবেন কি না—সেটার কোনো গ্যারান্টি নেই। তার স্ত্রীর বয়সও তার সমান। দুজনেই যদি এই বয়সে স্ট্রাগল শুরু করেন, তবে তা কতটা ফলপ্রসূ হবে?
পর্ব ৬: সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচল
তার গল্পটা শোনার পর আমি দীর্ঘক্ষণ চুপ করে ছিলাম। এটি কেবল একজন ফ্রিল্যান্সারের গল্প নয়, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের গল্প।
একদিকে আছে ‘আর্থিক স্বাধীনতা’ কিন্তু ‘জীবনের মানের অভাব’। বাংলাদেশে থাকলে তিনি ধনী, কিন্তু তার ফুসফুস নিচ্ছে দূষিত বাতাস, রাস্তায় বের হলে আছে ছিনতাইয়ের ভয়, আর খাবারে আছে বিষ।
অন্যদিকে আছে ‘উন্নত জীবন’ কিন্তু ‘আর্থিক অনিশ্চয়তা’। বিদেশে গেলে হয়তো তার সন্তান বিশুদ্ধ বাতাস পাবে, ভালো শিক্ষা ও চিকিৎসা পাবে, আইনের শাসন পাবে। কিন্তু তিনি নিজে কি ভালো থাকবেন? যে মানুষটি ১৩ বছর ধরে নিজের ঘরে বসে স্বাধীনভাবে কাজ করেছেন, তিনি কি পারবেন ভিনদেশে গিয়ে রেস্টুরেন্টে প্লেট ধুতে বা সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতে? ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ানো কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?
তিনি বলছিলেন, “আমার নিজের কষ্টের জমানো টাকা থেকে ৬০ লাখ টাকা টিউশন ফি দিতে আমার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে। আমি জানি না আমি কী করব।”
পাঠকের কাছে প্রশ্ন: আপনি কী করতেন?
প্রিয় পাঠক, এই পুরো ঘটনাটি পড়ার পর আপনার কী মনে হয়? এই ভাইটির জায়গায় যদি আপনি থাকতেন, তবে আপনি কোন পথটি বেছে নিতেন?
১. বাংলাদেশে থেকে যাওয়া: এআই-এর কারণে কাজ কমলেও, তার যে প্যাসিভ ইনকাম (বছরে ৩০ লাখ+), তা দিয়ে রাজার হালে দেশে থাকা। দেশের সমস্যাগুলোকে মেনে নিয়ে, টাকার জোরে কিছুটা ভালো থাকার চেষ্টা করা। কারণ, দিনশেষে নিজের দেশে নিজের টাকার ওপর বসে থাকার আরামই আলাদা।
২. বিদেশ চলে যাওয়া: টাকার মায়া ত্যাগ করে, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রিস্ক নেওয়া। হয়তো প্রথম কয়েক বছর অনেক কষ্ট হবে, হয়তো জমানো টাকার বড় একটা অংশ চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে থাকার গ্যারান্টি পাওয়া যাবে।
আমাদের সমাজে আমরা প্রায়ই দেখি মানুষ টাকার জন্য বিদেশ যায়। কিন্তু যার কাছে অঢেল টাকা আছে, অথচ দেশে থাকার পরিবেশ নেই—তার কষ্টটা বোঝার মতো লোক খুব কম।
ডিজাইনোফ্লাই-এর পক্ষ থেকে আমরা ফ্রিল্যান্সারদের এই ধরনের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চাই। কারণ ফ্রিল্যান্সিং মানেই শুধু ডলারের ঝনঝনানি নয়, এর পেছনে থাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা, এআই-এর মতো প্রযুক্তির সাথে টিকে থাকার লড়াই, এবং দিনশেষে ভালো থাকার আপ্রাণ চেষ্টা।
কমেন্ট সেকশনে আপনার মতামত জানান। সুচিন্তিত পরামর্শ হয়তো এই ভাইটিকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।
Feel free to visit our youtube channel. And don’t forget to subscribe it.
বিঃদ্রঃ এই গল্পটি সম্পূর্ণ সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা। নাম ও পরিচয় গোপনীয়তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সমস্যাটি আমাদের অনেকেরই চেনা।
DesignoFly.com – ক্রিয়েটিভ সলিউশন এবং ফ্রিল্যান্সারদের পাশে সবসময়।
Feel free to visit our blog post update
#ফ্রিল্যান্সিং #BangladeshFreelancer #BanglaBlog #AIFreelancing #PassiveIncome #FinancialFreedom #BangladeshEconomy #DhakaLife #MigrationDilemma #StudyAbroad #InvestmentTips #DesignoFly #StudioDesignoFly #LeadGeneration #Upwork #FreelancerDotCom
