লিখেছেন: ডিজাইনোফ্লাই স্টুডিও টিম
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গত এক দশকে যদি কোনো নীরব বিপ্লব ঘটে থাকে, তবে তার নাম ‘ফ্রিল্যান্সিং’। একসময় যা ছিল কেবল শখের কাজ বা পকেট মানি আয়ের উৎস, আজ তা হাজারো তরুণের মূল পেশা। বাংলাদেশের অজপাড়াগাঁ থেকে শুরু করে ঢাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট—সবখানেই তৈরি হয়েছে লাখো ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’। তারা ঘরে বসে বিদেশের মাটিতে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন এবং দেশে আনছেন মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।
কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও ছিল। এতদিন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কোনো রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। ব্যাংকে গেলে লোন পাওয়া যেত না, বিয়ের বাজারে পাত্র হিসেবে মর্যাদা পাওয়া যেত না, এমনকি পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ‘ফ্রিল্যান্সার’ লিখতে গেলেও পোহাতে হতো হাজারো ঝক্কি। কারণ? তাদের কোনো ‘আইডেন্টিটি’ বা পরিচয়পত্র ছিল না।
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন নিয়ে এসেছে ‘ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড’ (Freelancer ID Card)। এটি কেবল একটি কার্ড নয়, এটি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সম্মান, স্বীকৃতি এবং ক্ষমতায়নের এক নতুন অধ্যায়।
আজকের এই মেগা-গাইডলাইনে আমরা জানব—ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড কী, কেন এটি জরুরি, কীভাবে আবেদন করবেন, যোগ্যতা কী, এবং এর ভবিষ্যৎ সুবিধাগুলো কী কী। চলুন, বিস্তারিত জানা যাক।
পর্ব ১: ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড এবং freelancers.gov.bd কী?
সহজ কথায়, freelancers.gov.bd হলো বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন (ICT Division) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর (DoICT)-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফ্রিল্যান্সারদের একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা।
এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই প্রদান করা হয় ‘ভার্চুয়াল ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড’। এটি এমন একটি সরকারি ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা প্রমাণ করে যে আপনি একজন পেশাদার ফ্রিল্যান্সার এবং আপনার আয় বৈধ।
সরকারের উদ্দেশ্য
সরকার এই উদ্যোগটি নিয়েছে মূলত তিনটি কারণে:
১. স্বীকৃতি: ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়া।
২. ডাটাবেজ তৈরি: দেশে আসলে কতজন ফ্রিল্যান্সার আছেন, তাদের আয় কেমন এবং কোন খাতে তারা কাজ করছেন—তার সঠিক পরিসংখ্যান বের করা, যা ভবিষ্যৎ পলিসি তৈরিতে সাহায্য করবে।
৩. ক্ষমতায়ন: ফ্রিল্যান্সারদের ব্যাংকিং সেবা, প্রণোদনা এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণের আওতায় আনা।
পর্ব ২: কেন আপনার এই কার্ডটি প্রয়োজন? (বাস্তব জীবনের সমস্যা ও সমাধান)
অনেকেই প্রশ্ন করেন, “ভাই, আমি তো আপওয়ার্ক বা ফাইভারে কাজ করে ভালোই টাকা কামাচ্ছি, এই কার্ড দিয়ে আমি কী করব?” উত্তরটা খুব সহজ—টাকা থাকলেই সমাজে সব সমস্যার সমাধান হয় না, যদি না আপনার পেশার কোনো নাম থাকে।
চলুন দেখি এই কার্ডটি আপনার কোন কোন সমস্যার সমাধান করবে:
১. সামাজিক পরিচিতি (Social Identity)
আমাদের সমাজে এখনো ‘চাকরি’ বলতে মানুষ বোঝে সকাল ৯টা থেকে ৫টার অফিস। আপনি ঘরে বসে মাসে ৩ লাখ টাকা আয় করলেও, প্রতিবেশীর চোখে আপনি ‘বেকার’। এই আইডি কার্ডটি আপনার পেশার একটি রাষ্ট্রীয় সনদ। এখন আপনি গর্ব করে বলতে পারবেন, আপনি একজন সরকার স্বীকৃত ফ্রিল্যান্সার। বিয়ে করার সময় মেয়ের বাবাকে দেখাতে পারবেন যে আপনার কাজ সরকার স্বীকৃত।
২. ব্যাংকিং ও লোন সুবিধা
ফ্রিল্যান্সারদের সবচেয়ে বড় বেদনা ছিল ব্যাংকিং সেক্টরে। ক্রেডিট কার্ড বা লোনের জন্য আবেদন করলে ব্যাংক চাইত স্যালারি স্লিপ বা ট্রেড লাইসেন্স। ফ্রিল্যান্সারদের এর কোনোটিই থাকত না। এই আইডি কার্ডটি এখন আপনার আয়ের বৈধ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। যদিও ব্যাংকগুলো এখনো পুরোপুরি সহজ হয়নি, তবে এই কার্ড থাকা মানে আপনি কেওয়াইসি (KYC) বা পেশার প্রমাণ হিসেবে শক্তিশালী ডকুমেন্ট জমা দিতে পারছেন।
৩. ভিসা প্রসেসিং ও পাসপোর্ট
বিদেশে ট্যুরিস্ট ভিসায় যাওয়ার সময় এমবাসি জানতে চায় আপনি কী করেন। এতদিন ফ্রিল্যান্সারদের এটি প্রমাণ করতে বেগ পেতে হতো। এখন এই সরকারি কার্ড এবং এর ইউনিক কিউআর কোড (QR Code) দিয়ে সহজেই আপনার পেশা যাচাই করা সম্ভব।
৪. সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণ
সরকার বিভিন্ন সময় ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৪% ক্যাশ ইনসেনটিভ বা উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। যারা রেজিস্টার্ড ফ্রিল্যান্সার, তারা স্বাভাবিকভাবেই এসব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
পর্ব ৩: কারা আবেদন করতে পারবেন? (যোগ্যতা)
সরকার এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজ এবং ইনক্লুসিভ (সবার জন্য উন্মুক্ত) রাখার চেষ্টা করেছে। যাতে ছোট-বড় সব ধরনের ফ্রিল্যান্সার এই ছাতার নিচে আসতে পারেন।
আবেদনের জন্য মাত্র দুটি প্রধান যোগ্যতা প্রয়োজন:
১. বাংলাদেশি নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার একটি বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) থাকতে হবে।
২. ন্যূনতম আয়: গত ১২ মাসে (১ বছরে) আপনার ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন কাজের মাধ্যমে অন্তত ৫০ মার্কিন ডলার ($50) আয়ের প্রমাণ থাকতে হবে।
লক্ষ্য করুন, এখানে হাজার হাজার ডলার আয়ের কথা বলা হয়নি। মাত্র ৫০ ডলার বা বর্তমান বাজার দরে প্রায় ৬০০০ টাকা আয় করলেই আপনি নিজেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দাবি করতে পারবেন। এটি করা হয়েছে যাতে নতুন বা বিগিনার ফ্রিল্যান্সাররাও বাদ না পড়েন।
আয়ের উৎস কী হতে পারে?
- Upwork, Fiverr, Freelancer.com-এর মতো মার্কেটপ্লেস।
- Payoneer বা সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার।
- গুগল অ্যাডসেন্স বা ফেসবুক মনিটাইজেশন ইনকাম।
- যেকোনো বৈধ ডিজিটাল সার্ভিস থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রা।
পর্ব ৪: আবেদনের আগে যা যা প্রস্তুত রাখবেন (ডকুমেন্ট চেকলিস্ট)

আবেদন করতে বসার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো নির্দিষ্ট ফরম্যাটে রেডি করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আবেদনের সময় কোনো ইরর (Error) বা ঝামেলা হবে না।
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- ফরম্যাট: PNG, JPEG বা JPG।
- সাইজ: সর্বোচ্চ ৫০০ কেবি (500 KB)।
- শর্ত: এনআইডি কার্ডের সামনের অংশ (Front) এবং পেছনের অংশ (Back) অবশ্যই থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ফটোশপ বা ক্যানভা দিয়ে দুই পাশকে একটি ছবিতে (Single Image File) মার্জ বা যুক্ত করে নেন।
২. আপনার ছবি (Photograph)
- ফরম্যাট: PNG, JPEG বা JPG।
- ডাইমেনশন: ঠিক ৩০০ x ৩০০ পিক্সেল (300×300 px)।
- সাইজ: সর্বোচ্চ ৫০০ কেবি।
- পরামর্শ: ছবিটি যেন প্রফেশনাল হয়। সেলফি বা অস্পষ্ট ছবি না দেওয়াই ভালো, কারণ এই ছবিটিই আপনার কার্ডে প্রিন্ট হবে।
৩. আয়ের প্রমাণপত্র (Proof of Income) – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
- ফরম্যাট: PDF ফাইল।
- সাইজ: সর্বোচ্চ ২ এমবি (2 MB)।
- শর্ত: গত ১২ মাসে অন্তত ৫০ ডলার আয়ের প্রমাণ থাকতে হবে।
কীভাবে আয়ের প্রমাণ দেবেন?
- মার্কেটপ্লেস: Upwork বা Fiverr থেকে ‘Certificate of Earnings’ বা ‘Statement’ ডাউনলোড করুন।
- পেমেন্ট গেটওয়ে: Payoneer বা Wise-এর ট্রানজেকশন স্টেটমেন্ট বা রিসিট ডাউনলোড করুন।
- ব্যাংক: আপনার ব্যাংকে যদি রেমিট্যান্স এসে থাকে, তবে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট হাইলাইট করে দিতে পারেন।
- একাধিক সোর্স: আপনি যদি একাধিক জায়গা থেকে আয় করেন, তবে সবগুলো ডকুমেন্ট বা স্ক্রিনশট নিয়ে একটি মাত্র পিডিএফ ফাইলে মার্জ (Merge) করে আপলোড করবেন।
পর্ব ৫: আবেদন প্রক্রিয়া – ধাপে ধাপে (Step-by-Step Guide)
এখন আসি মূল কাজে। কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন? পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হয় এবং কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন
প্রথমে ভিজিট করুন freelancers.gov.bd। ‘Apply Now’ বা ‘Register’ বাটনে ক্লিক করুন। আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। মোবাইলে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন হতে পারে।
ধাপ ২: ব্যক্তিগত তথ্য ও এনআইডি
লগইন করার পর আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের ফর্মটি পূরণ করুন। এখানে আপনার নাম, ঠিকানা এবং এনআইডি নম্বর নির্ভুলভাবে দিন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যই আপনার কার্ডে থাকবে। এরপর নির্দেশিত স্থানে আপনার এনআইডি কার্ডের স্ক্যান কপি এবং ৩০০x৩০০ সাইজের ছবি আপলোড করুন।
ধাপ ৩: আয়ের তথ্য ও প্রমাণ আপলোড
এটি সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল ধাপ। এখানে আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে আপনি কোন ধরনের কাজ করেন (যেমন: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি)। এরপর গত ১ বছরে আপনার আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করুন এবং আগেই রেডি করে রাখা আয়ের প্রমাণের পিডিএফ ফাইলটি আপলোড করুন।
ধাপ ৪: সাবমিশন ও ভেরিফিকেশন
সব তথ্য ঠিক থাকলে আবেদনটি সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর আপনার কাজ শেষ। এখন আইসিটি ডিভিশন এবং ফ্রিল্যান্সার আইডি টিমের পালা। তারা আপনার দেওয়া তথ্য এবং আয়ের প্রমাণ ম্যানুয়ালি যাচাই-বাছাই করবেন।
ধাপ ৫: কার্ড জেনারেশন ও ডাউনলোড
আপনার তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে, আপনার আবেদনটি অ্যাপ্রুভ বা অনুমোদন করা হবে। অনুমোদিত হলে আপনি ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পাবেন। তখন আবার ওয়েবসাইটে লগইন করলেই দেখতে পাবেন আপনার চকচকে ডিজিটাল ‘ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড’। এটি ডাউনলোড করে কালার প্রিন্ট বা লেমিনেটিং করে রাখতে পারেন।
কার্ডটিতে একটি QR Code থাকবে, যা স্ক্যান করলেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখা যাবে যে আপনি বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত একজন ভেরিফাইড ফ্রিল্যান্সার।
পর্ব ৬: খরচ কত? (Fee)
এখানে একটি বড় সুখবর আছে। আগে এই কার্ডের জন্য ১৫০০ টাকা ফি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাওয়া সম্পূর্ণ ফ্রি (Cost Free)।
সরকার ফ্রিল্যান্সারদের উৎসাহিত করার জন্য এবং সবাইকে এই কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য আবেদনের ফি মওকুফ করেছে। অর্থাৎ, কোনো টাকা খরচ না করেই আপনি এই মূল্যবান কার্ডটি পেতে পারেন।

পর্ব ৭: কার্ডের মেয়াদ ও নবায়ন (Renewal)
সরকারি এই কার্ডটি আজীবনের জন্য দেওয়া হয় না। এর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে।
- মেয়াদ: কার্ড ইস্যু করার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ (তিন) বছর পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
- তথ্য আপডেট: এই তিন বছরের মধ্যে যদি আপনার ঠিকানা বা স্কিল পরিবর্তন হয়, তবে আপনি রি-ভেরিফিকেশন ছাড়াই প্রোফাইলে বেসিক তথ্য আপডেট করতে পারবেন।
- নবায়ন প্রক্রিয়া: ৩ বছর পার হয়ে গেলে কার্ডটি ‘এক্সপায়ার’ বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। তখন আপনাকে আবার অনলাইনে রিনিউয়াল বা নবায়নের আবেদন করতে হবে।
- নবায়নের শর্ত: নবায়নের সময় আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি এখনো ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আছেন। অর্থাৎ, নবায়নের আবেদনের আগের ১২ মাসে আবারও ন্যূনতম ৫০ ডলার আয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে।
পর্ব ৮: আইসিটি ডিভিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড কেবল শুরু মাত্র। আইসিটি ডিভিশন এবং DoICT-এর আরও বড় এজেন্ডা রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে।
১. কমন প্ল্যাটফর্ম: এই ওয়েবসাইটটিকে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি সোশ্যাল হাব বা কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে তারা একে অপরের সাথে নলেজ শেয়ার করতে পারবেন।
২. উচ্চমানের প্রশিক্ষণ (High Quality Training): সাধারণ ডাটা এন্ট্রি বা গ্রাফিক ডিজাইনের বাইরে গিয়ে এআই (AI), ব্লকচেইন (Blockchain), এবং এআর/ভিআর (AR/VR)-এর মতো অ্যাডভান্সড টেকনোলজিতে ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে গ্লোবাল মার্কেটে বাংলাদেশিরা পিছিয়ে না পড়ে।
৩. পলিসি মুভমেন্ট: ফ্রিল্যান্সারদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন নীতিমালা তৈরি করা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয় করা।
পর্ব ৯: সতর্কতা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
আবেদন করার সময় অনেকেই ছোটখাটো ভুল করেন, যার ফলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
- ভুল তথ্য দেবেন না: সরকারি ডাটাবেজে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। আপনার আয় যদি ৫০ ডলারের কম হয়, তবে ভুয়া ডকুমেন্ট বানিয়ে আপলোড করবেন না। এতে ভবিষ্যতে আপনি কালো তালিকাভুক্ত হতে পারেন।
- ফাইলের নাম: আপনার আপলোড করা ফাইলগুলোর (NID, Photo, PDF) নাম সহজ ইংরেজিতে দিন। যেমন:
my_photo.jpg,income_proof.pdf। অনেক সময় ফাইলের নাম অনেক বড় বা বিশেষ ক্যারেক্টার থাকলে আপলোডে সমস্যা হয়। - টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন: সাবমিট করার আগে ওয়েবসাইটের ‘Terms and Conditions’ ভালো করে পড়ে নেওয়া উচিত।
উপসংহার: আপনার স্বীকৃতির অধিকার বুঝে নিন
ফ্রিল্যান্সিং এখন আর কোনো গোপন বা অবহেলিত পেশা নয়। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তবে এই আইডি কার্ডটি আপনার অধিকার। এটি আপনাকে শুধু একটি কার্ড দিচ্ছে না, বরং আপনাকে যুক্ত করছে একটি জাতীয় ডাটাবেজে, যা ভবিষ্যতে আপনার পেশাগত সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
যেহেতু এটি এখন সম্পূর্ণ ফ্রি এবং প্রক্রিয়াটিও সহজ, তাই আজই freelancers.gov.bd-তে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন এবং নিজের পেশার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জন করুন।
ফ্রিল্যান্সিং জগত, পোর্টফোলিও তৈরি বা পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং নিয়ে যেকোনো পরামর্শের জন্য ভিজিট করতে পারেন আমাদের ওয়েবসাইট studio.designofly.com। আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে আমরা আছি আপনার পাশে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: আমি ছাত্র, আমি কি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারব?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনি ছাত্র হলেও সমস্যা নেই। আপনার এনআইডি এবং গত ১ বছরে ৫০ ডলার আয়ের প্রমাণ থাকলেই আপনি আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন: আমার টিমের সদস্যরা কি আমার আয়ের প্রমাণ দিয়ে কার্ড করতে পারবে?
উত্তর: না। এটি ব্যক্তিগত কার্ড। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা এনআইডি এবং আয়ের প্রমাণ থাকতে হবে। তবে এজেন্সির ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত কার্ডের জন্য নিজের আয় দেখানোই নিয়ম।
প্রশ্ন: কার্ডটি পেতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: এটি নির্ভর করে আবেদনের চাপের ওপর। সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়। তবে ডকুমেন্ট ক্লিয়ার থাকলে আরও দ্রুত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: এই কার্ড দিয়ে কি ব্যাংক লোন নিশ্চিত পাওয়া যাবে?
উত্তর: কার্ডটি লোন পাওয়ার ‘গ্যারান্টি’ দেয় না, তবে লোন পাওয়ার ‘যোগ্যতা’ তৈরি করে। ব্যাংক লোন দেওয়ার আগে আপনার আয়ের ধারাবাহিকতা এবং ব্যাংকিং হিস্ট্রি দেখবে। তবে এই কার্ডটি আপনার পেশার একমাত্র বৈধ ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করবে।
Visit us at: studio.designofly.com
#FreelancerIDCard #FreelancersGovBD #BangladeshFreelancer #ফ্রিল্যান্সারআইডি #FreelanceBD #DigitalBangladesh #ICTDivision #FreelancerRecognition #FreelancerCard #BangladeshFreelancing #FreelancerID #ফ্রিল্যান্সারসগভবিডি
